বোয়ালমারী প্রতিনিধি:বিশ্বকাপ ফুটবলের আদলে ৪৮টি দল নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশ, খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং মাদক ও তামাকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষার লক্ষ্যেই এ আয়োজন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
আগামী ১২ জুন বোয়ালমারী স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের আদলে সাজানো হয়েছে এই টুর্নামেন্টের দল বিন্যাস।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কোনো বিশেষ বরাদ্দ ছাড়াই উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব তহবিল থেকে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে মাদক ও তামাকমুক্ত সমাজ গঠনই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রতিযোগিতা উপলক্ষে সোমবার (৮ জুন) উপজেলা পরিষদের হলরুমে ক্রীড়ামোদী ব্যক্তি, সংগঠক ও দলপ্রধানদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান।সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কারিজুল ইসলাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন মিয়া দিপু, বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সাজ্জাদ হোসাইন, যুবদল নেতা মো. রোকনুজ্জামান বকুল, ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং বোয়ালমারী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব বাইজিদ খান রাব্বি প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় ইউএনও এস এম রকিবুল হাসান বলেন, “সমাজে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক তরুণ হতাশাগ্রস্ত হয়ে মাদকসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফলে মাদককেন্দ্রিক অপরাধও বাড়ছে। যুবসমাজকে এসবের কবল থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকের মতো প্রকাশ্যে ধূমপানও আইনত দণ্ডনীয়। ধূমপানবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।”
ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের অঞ্চলের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যায়। এই আয়োজন তাদের প্রতিভা বিকাশের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।”
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন মিয়া দিপু বলেন, “সম্প্রতি আমাদের উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে খেলোয়াড়রা বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদের যথাযথ পরিচর্যা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে তারা জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। বিশ্বকাপের আদলে এই আয়োজন স্থানীয় ফুটবলে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।”
সভা শেষে প্রতিযোগিতার দল বিন্যাস, ম্যাচসূচি চূড়ান্তকরণ এবং আয়োজন সফল করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, খেলাধুলাভিত্তিক এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply