বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী–মধুখালী-আলফাডাঙ্গা) আসনে নির্বাচনী রাজনীতিকে মুক্তিযুদ্ধ বনাম স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির স্পষ্ট দ্বন্দ্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে জেগে ওঠেন, তাহলে জামায়াত-শিবির একটি ভোটও পাবে না।
গত শনিবার বোয়ালমারীতে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, আলবদর-আলশামসের উত্তরসূরিদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে জায়গা পাওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি সক্রিয় হলে স্বাধীনতাবিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
তিনি বলেন, ‘এই দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশ পরিচালনার কথা যারা বলে, তারা ইতিহাস বিকৃত করতে চায়।’
মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কোনো আপস নেই উল্লেখ করে তিনি নাসিরুল ইসলাম বলেন, যারা একাত্তরের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে এবং এখনো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিদ্রুপ করে, তাদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক অতীতেও ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।
নিজের বয়স ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করছেন না। তার লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করা।
জামায়াতে ইসলামীকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, দলটি ইসলামকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তিনি বলেন, এটি কোনো ইসলামী দল নয়; এটি একটি স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠী।সভায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিমুক্ত’ করার আহ্বান জানান তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বোয়ালমারী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনসহ ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে তিনটি উপজেলার তিনটি পৌরসভা ও ২৭টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১০ হাজার ৫৬৫জন।
Leave a Reply