বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জ্বালানি তেল(ডিজেল) সংকটে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জেলার বৃহত্তর শিল্পকারখানা আল আলী অটো ব্রিকস্ লিঃ। জ্বালানি তেল সংকটে বন্ধ হওায়র পথে বৃহৎ এই অটো ইট ভাটাটি। ফলে কর্ম হারানোর আশঙ্কায় দিনাতিপাত করছে ৩ শতাধিক শ্রমিক।
জ্বালানি তেল সরবরাহ করে মিলটি সচল রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মিলটির শ্রমিক কর্মচারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আকুতিভরা কন্ঠে সরকারের প্রতি আবেদন করেন- কারখানাটিতে নিবিড় ভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে সচল রাখার জন্য, শ্রমিকরা জানান – ঘনঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং-এর ফলে জ্বালানি তেল না থাকায় অটো ভাটাটির কর্মচঞ্চলতা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ছাড়া-ও বসে থাকতে হয় শ্রমিকদের। এতে প্রতিদিনই লোকসানের মুখে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। বৈশ্বিক যুদ্ধবিগ্রহের ফলে জ্বালানি তেল সংকটের আগে যেখানে শ্রমিকদের কোলাহলে মুখর থাকত অটো ইট ভাটার আঙিনা, সেখানে এখন নেমে এসেছে অজানা আতঙ্কের নীরবতা। জ্বালানি তেল(ডিজেল) না থাকায় প্রায় ৩০-৩৫টি যানবাহন ও দুটি জেনারেটর একেবারে অচল হয়ে পড়েছে। উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির। যে কোনো মুহূর্তে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে ইট ভাটাটি। এই ভাটার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৩ শতাধিক শ্রমিক আর তাদের পরিবারের হাজারো মানুষ। তাদের জীবনে এখন অনিশ্চয়তার কালো ছায়া।
উত্তরবঙ্গ থেকে আগত এক শ্রমিক জানান- প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে ডিউটি করেন তারা, এর মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় ৪/৫ ঘন্টা বসে থাকতে হয়। নষ্ট হয় চুল্লীতে থাকা আধাপোড়া ইট। এতে লোকসানের মুখে পড়েছে মালিকপক্ষ। শোনা যাচ্ছে তেল সংগ্রহ করা না গেলে কয়েকদিনের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে ভাটাটি।
ভাটায় কর্মরত নবিরন বেগম নামে এক শ্রমিক বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। ভাটা বন্ধ হলে আমাদের অনাহারে কাটাতে হবে। এছাড়া সমিতির ঋণের কিস্তির চাপ আছে। কাজ করে যে বেতন পাই তা দিয়েই কিস্তি পরিশোধ ও সংসার চালাই, কাজ না থাকলে খাবো নাকি কিস্তি দেবো, বুঝতে পারছি না। ভাটা বন্ধ হয়ে গেলে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।
রহিম নামে আরেকজন বলেন, এই ভাটাই আমাদের সবকিছু। এটা বন্ধ হলে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো। মালিক আর কতদিন আমাদের কাজ ছাড়া বসিয়ে বেতন দেবে।
ইট ভাটার এইচআর ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,ভাটা চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে এক ফোঁটা জ্বালানি তেল(ডিজেল) পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সব কার্যক্রম থমকে গেছে। জ্বালানি ছাড়া আমাদের ভাটা এক মিনিটও চলতে পারে না। ১২ বছর যাবৎ কাজ করছি এমন সংকটে আগে পড়তে হয়নি। তেল সংকট মোকাবেলায় যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে প্রায় ৩শতাধীক মানুষের জীবিকা একসাথে বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ থাকলে কিছু কাজ করা যায়,কিন্তু ডিজেল ছাড়া গাড়ি ও জেনারেটর চালানো সম্ভব নয়। আমরা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাই, এই শ্রমিকদের কথা ভেবে দ্রুত ভাটাটিতে জ্বালানি তেল বিশেষ করে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করুন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। অনেক শ্রমিকের জীবিকা এই কারখানার সঙ্গে জড়িত। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো।
Leave a Reply